একজন Gen Z-এর একটি দিন
সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথম যে জিনিসটা হাতে আসে, সেটা অনেকের জন্য মোবাইল।
চোখ পুরোপুরি খোলার আগেই Facebook, Instagram, TikTok বা অন্য কোনো social media-তে ঢুকে পড়া।
একটা ভিডিও, তারপর আরেকটা।
একটা Reel, তারপর আরেকটা।
ভাবছেন মাত্র ৫ মিনিট দেখবেন।
কখন যে ১ ঘণ্টা চলে গেছে, সেটা টেরই পাননি।
তারপর YouTube।
৫ সেকেন্ড, ১০ সেকেন্ড, ২০ সেকেন্ডের ভিডিও।
কোথাও নতুন কোনো skill, কোথাও psychology, কোথাও career advice, কোথাও productivity।
মনে হচ্ছে, আজ অনেক কিছু শিখে ফেললাম।
এর মধ্যে বাসা থেকে ডাক আসে,
“খেতে আসো।”
“গোসল করেছ?”
“সারাদিন ফোন নিয়ে বসে আছ কেন?”
কিছুক্ষণ বাস্তব জীবনে ফিরে আসা।
তারপর শুরু হয় নতুন কিছু শেখার ইচ্ছা।
Graphic Design শিখবেন।
Video Editing শিখবেন।
Programming শিখবেন।
Digital Marketing শিখবেন।
একটার পর একটা online course কেনা হয়।
কিন্তু কয়েকদিন পর?
Course পড়ে থাকে।
Motivation কমে যায়।
নতুন আরেকটা course চোখে পড়ে।
জ্ঞান সংগ্রহ হচ্ছে, কিন্তু skill তৈরি হচ্ছে না।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা।
এবার একটু entertainment দরকার।
Netflix, YouTube, OTT platform খুলে বসা।
কী দেখবেন সেটাই ঠিক করতে ৩০ মিনিট চলে যায়।
শেষ পর্যন্ত একটা সিরিজ শুরু করলেন।
কয়েকটা episode দেখলেন।
শেষ করলেন না।
রাত বাড়তে থাকে।
হঠাৎ কোনো বন্ধুর ফোন।
“চল, বাইরে যাই।”
বেরিয়ে গেলেন।
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হলো।
হাসি হলো, গল্প হলো।
কিন্তু বাসায় ফিরে আবার একটা অদ্ভুত অনুভূতি।
আজ আসলে করলাম কী?
কোনো course শেষ হলো না।
নতুন কোনো skill শেখা হলো না।
পড়াশোনায় তেমন কিছু হলো না।
যে কাজগুলো করার কথা ছিল, সেগুলোও করা হলো না।
কিন্তু সারাদিন তো ব্যস্তই ছিলেন!
এখানেই একটা interesting বিষয় আছে।
ব্যস্ত থাকা আর productive থাকা এক জিনিস নয়।
Gen Z এমন একটি সময়ে বড় হচ্ছে, যেখানে information-এর অভাব নেই। বরং সমস্যা অনেক সময় information-এর অতিরিক্ততা।
এক click-এ হাজারটা option।
এক মিনিটে অসংখ্য content।
একসঙ্গে পড়াশোনা, entertainment, friendship, career planning এবং social media।
ফলে অনেকের জীবনে একটা অদ্ভুত cycle তৈরি হয়:
Scroll → Learn → Save → Plan → Delay → Entertainment → Guilt → আবার Scroll.
রাতে ঘুমানোর আগে বন্ধুদের সঙ্গে texting করে দিনের হতাশাটা একটু কমানোর চেষ্টা।
তারপর ঘুম।
পরদিন আবার একই গল্প।
তবে Gen Z-কে শুধু “অলস প্রজন্ম” বলে বিষয়টা শেষ করে দেওয়া খুব সহজ, কিন্তু পুরোপুরি সঠিক নয়।
এরা এমন একটি digital environment-এ বড় হচ্ছে, যেখানে attention-এর জন্য প্রতিনিয়ত competition চলছে।
Technology তাদের শেখার অসাধারণ সুযোগ দিয়েছে।
আবার একই technology তাদের attention-কে fragment-ও করতে পারে।
তাই সমস্যাটা শুধু মোবাইল ব্যবহার করছে কি না, সেটা নয়।
প্রশ্ন হলো,
আপনার technology কি আপনার জীবনকে পরিচালনা করছে, নাকি আপনি technology-কে পরিচালনা করছেন?
কারণ শেষ পর্যন্ত আপনার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান resource হয়তো টাকা নয়।
আপনার attention।
আর আপনি সারাদিন কোথায় আপনার attention দিচ্ছেন, ধীরে ধীরে আপনার জীবনও সেদিকেই তৈরি হচ্ছে।